শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৩

লাক্কা কবুতর পরিপালন ও ব্যাবসায়িক দিক

লাক্কা কবুতর পরিপালন ও ব্যাবসায়িক দিকঃ লাক্কা কবুতর দেখতে সাদা ও লেজটি ময়ূরের মত দেখতে । এই কবুতর সৌখীন লোকেরা তাদের বাসায় সুন্দরজ বৃদ্ধির জন্য লালন পালন করে । এই জাতের কবুতর পালনের জন্য খুব বেশী জায়গার প্রয়োজন হয় না । প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিচর্যার । মাত্র ২.৫ফুট / ৩ ফুট / ২.৫ মাপের একটি খাচায় পালন করা যায় । মাত্র ১০ ফুট/৩ ফুট/৭.৫ ফুট মাপের একটি খাচায় ১২ জোড়া লাক্কা কবুতর পালন করা যাবে খুব সহজেই । এখন আসা যাক ব্যয় এবং লাভের দিক ঃ ব্যায় ঃ ১ ঃ ১২ জোড়া লাক্কা কবুতর পালনের জন্য ১০/৩/৭.৫ ফুট মাপের একটি ভালো লোহার খাচা বানাতে খরচ পরবে আনুমানিক ১০,০০০/ টাকা । ২ ঃ এক জোড়া লাক্কা কবুতর ( ৩ মাস বয়সী ) এর দাম = ২০০০ টাকা । ১২ জোড়া লাক্কা কবুতরের দাম পরবে = ২৪,০০০/ টাকা ৩ ঃ ১২ জোড়া লাক্কা কবুতরের খাবার বাবদ প্রতি মাসে আনুমানিক = ২,০০০/ টাকা । ৬ মাস খাবার বাবদ খরচ পরবে আনুমানিক = ১২,০০০ টাকা । ৪ ঃ ৬ মাসে ভেক্সিন বাবদ খরচ পরবে আনুমানিক = ২,০০০/ টাকা । ৬ মাস পর্যন্ত আনুমানিক খরচ = ( ১+২+৩+৪ ) = ৪৮,০০০/ টাকা । ( উল্লেখ্য যে, এই ব্যায় শুধু নিজের বসত বা ফ্লাটের একটি রুমে করলে, একটি ১২/১০ ফুট রুমে উপরের মাপের ৩ টি খাচা রাখা যাবে । ) লাভের দিক ঃ লাক্কা কবুতরের বয়স যখন ৬ মাস হবে তখন থেকেই ডিম দেয়া শুরু করবে । অর্থাৎ কবুতর কিনে এনে খাচায় পরিপালনের বয়স যখন ৬ মাস হবে তখন ১২ জোড়া কবুতর থেকে ১২ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যাবে । ২ মাস বয়সী প্রতি জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা যাবে = ১৫০০/ টাকা করে । ১২ জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা যাবে = ১৮,০০০/ টাকা । এই হিসাবে মোট ব্যায় তোলে আনতে সময় লাগবে আনুমানিক ৪+৪ = ৮ মাস । প্রতি মাসে খাবার ব্যায় বাদ দিয়ে মাসে ১৬,০০০/ আয় করা যায় খুব সহজেই । যদি একটি রুমে ৩ টি খাচায় ৩৬ জোড়া কবুতর পরিপালন করা যায় ____ ব্যায় হবে ( ৬ মাসের খাবার ও ভ্যাক্সিন সহ ) আনুমানিক ১,৫০,০০০/ টাকা । মোট প্রাক্কলিত ব্যায় উঠে আসতে সময় লাগবে মাত্র ৪+২ = ৬ মাস । এর পর থেকে প্রতি মাসে খাবার ও ভ্যাক্সিন বাবদ ব্যায় হবে = ৬০০০/ টাকা । লাভ হবে প্রতি মাসে নীট = ৪৮,০০০/ টাকা । ( মাত্র ১,৫০,০০০/ টাকা ব্যায় করে , প্রতিদিন মাত্র ২/৩ ঘণ্টা সময় ব্যায় করে , ৪+২ = ৬ মাসের মধ্যে মূল প্রাক্কলিত ব্যায় ফেরত সহ , প্রতি মাসে ৪৮,০০০/ টাকা আয় করা আর অন্য কোন ব্যাবসায় আছে কিনা আমার জানা নাই । )

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৩

বিএনপি কার , জনগন না জামাত-শিবিরের ?

বিএনপি চুপ কেন ? কার স্বার্থে ? জনগন না জামাত-শিবিরের ? ৭১ এর মানবতাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অপরাধে আজ যখন জামাতের নায়েবে আমীর ওরফে দেইল্লা বা দেলু রাজাকারের ফাঁসির রায় হল , সারা বাংলায় যখন আনন্দের জোয়ার বইল , মুক্তিযোদ্ধারা যখন খুশি হইল , ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মা যখন শান্তি পেল, ঠিক সেই সময় আমাদের বিএনপি চুপ রইল । বিএনপি এর পক্ষ থেকে কোন প্রকার মন্তব্য প্রকাশ করা হই নাই । আমরা কি ভাবব যে, এই ফাঁসির রায়ে বিএনপি মর্মাহত ! নাকি তারা হতভম্ব ! শহীদ জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা । উনি যখন ক্ষমতায় তখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়েছিলেন । তারি ধারাবাহিকতায় উনার স্ত্রী রাজাকারদের এই বাংলায় পাকাপোক্ত করেছেন । আমাদের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন তাদের গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতে । জামাত- শিবিরের ডাকা হরতাল ও নৈরাজ্যকে সমর্থন দেন নৈতিক কারনে । আজ যখন জামাত- শিবিরের জঙ্গিরা নৈরাজ্য চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে বসত বাড়ি সহ গাড়ি, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে । উপড়ে ফেলছে রেল লাইন , আগুন দিচ্ছে রেল ষ্টেশনে , তখনও উনাদের একজন বলছেন আওয়ামীলীগ দেশকে ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে । জামাত- শিবির যখন প্রকাশ্যে বলছে “ দেশে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিব” , তখনও উনারা নৈতিক সমর্থন দিয়ে বা চুপ থেকেছেন । শুধু তাই নয় উনার দলের MP রা স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ে উদ্ভট কথা বলা শুরু করেছেন । নিলুফার ইয়াসমিন নিলু নামের এক MP তো ৩০ লক্ষ নয় ৩ লক্ষ শহীদ হয়েছে বলছেন । বঙ্গবন্ধু নাকি “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলেছেন । খালেদা জিয়া সহ বিএনপির নেতারা বলছেন যাদের বিচার হচ্ছে উনারা নাকি ৭১ এ কোন মানবতা বিরোধী অপরাধ করেন নাই । এই সব কথা বলার জন্য বিএনপিকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেতে পারে । সময়ের রায় জনগন দিবে । আমার প্রশ্ন , যদি বর্তমান আটক ব্যাক্তিরা মানবতা বিরোধী অপরাধ না করে থাকেন , তা হলে কারা তখন এই অপরাধ করেছিল ? আর বিএনপি কেন এতদিন এর বিচার করেন নাই ? নাকি উনারা চান না তাদের দোসর এই জামাত- শিবিরের রাজাকারদের বিচার করতে ? এটা কি উনাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটার কোন ধান্দা ? নাকি উনারা এমন কিছুই পেয়েছেন জামাতের কাছ থেকে যার জন্য জনবিচ্ছিন্ন হতে উনাদের কোন আপত্তি নাই ? তার পরেও থেমে থাকবে না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । কোন দল সমর্থন দিল কি দিল না তার প্রয়োজন নাই । এই বিচার জনগনের দাবি, এই বিচার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি । এই বিচার সকল শহীদের দাবি । এই বিচার আমাদের পতাকার দাবি ।