শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৩

লাক্কা কবুতর পরিপালন ও ব্যাবসায়িক দিক

লাক্কা কবুতর পরিপালন ও ব্যাবসায়িক দিকঃ লাক্কা কবুতর দেখতে সাদা ও লেজটি ময়ূরের মত দেখতে । এই কবুতর সৌখীন লোকেরা তাদের বাসায় সুন্দরজ বৃদ্ধির জন্য লালন পালন করে । এই জাতের কবুতর পালনের জন্য খুব বেশী জায়গার প্রয়োজন হয় না । প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিচর্যার । মাত্র ২.৫ফুট / ৩ ফুট / ২.৫ মাপের একটি খাচায় পালন করা যায় । মাত্র ১০ ফুট/৩ ফুট/৭.৫ ফুট মাপের একটি খাচায় ১২ জোড়া লাক্কা কবুতর পালন করা যাবে খুব সহজেই । এখন আসা যাক ব্যয় এবং লাভের দিক ঃ ব্যায় ঃ ১ ঃ ১২ জোড়া লাক্কা কবুতর পালনের জন্য ১০/৩/৭.৫ ফুট মাপের একটি ভালো লোহার খাচা বানাতে খরচ পরবে আনুমানিক ১০,০০০/ টাকা । ২ ঃ এক জোড়া লাক্কা কবুতর ( ৩ মাস বয়সী ) এর দাম = ২০০০ টাকা । ১২ জোড়া লাক্কা কবুতরের দাম পরবে = ২৪,০০০/ টাকা ৩ ঃ ১২ জোড়া লাক্কা কবুতরের খাবার বাবদ প্রতি মাসে আনুমানিক = ২,০০০/ টাকা । ৬ মাস খাবার বাবদ খরচ পরবে আনুমানিক = ১২,০০০ টাকা । ৪ ঃ ৬ মাসে ভেক্সিন বাবদ খরচ পরবে আনুমানিক = ২,০০০/ টাকা । ৬ মাস পর্যন্ত আনুমানিক খরচ = ( ১+২+৩+৪ ) = ৪৮,০০০/ টাকা । ( উল্লেখ্য যে, এই ব্যায় শুধু নিজের বসত বা ফ্লাটের একটি রুমে করলে, একটি ১২/১০ ফুট রুমে উপরের মাপের ৩ টি খাচা রাখা যাবে । ) লাভের দিক ঃ লাক্কা কবুতরের বয়স যখন ৬ মাস হবে তখন থেকেই ডিম দেয়া শুরু করবে । অর্থাৎ কবুতর কিনে এনে খাচায় পরিপালনের বয়স যখন ৬ মাস হবে তখন ১২ জোড়া কবুতর থেকে ১২ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যাবে । ২ মাস বয়সী প্রতি জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা যাবে = ১৫০০/ টাকা করে । ১২ জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা যাবে = ১৮,০০০/ টাকা । এই হিসাবে মোট ব্যায় তোলে আনতে সময় লাগবে আনুমানিক ৪+৪ = ৮ মাস । প্রতি মাসে খাবার ব্যায় বাদ দিয়ে মাসে ১৬,০০০/ আয় করা যায় খুব সহজেই । যদি একটি রুমে ৩ টি খাচায় ৩৬ জোড়া কবুতর পরিপালন করা যায় ____ ব্যায় হবে ( ৬ মাসের খাবার ও ভ্যাক্সিন সহ ) আনুমানিক ১,৫০,০০০/ টাকা । মোট প্রাক্কলিত ব্যায় উঠে আসতে সময় লাগবে মাত্র ৪+২ = ৬ মাস । এর পর থেকে প্রতি মাসে খাবার ও ভ্যাক্সিন বাবদ ব্যায় হবে = ৬০০০/ টাকা । লাভ হবে প্রতি মাসে নীট = ৪৮,০০০/ টাকা । ( মাত্র ১,৫০,০০০/ টাকা ব্যায় করে , প্রতিদিন মাত্র ২/৩ ঘণ্টা সময় ব্যায় করে , ৪+২ = ৬ মাসের মধ্যে মূল প্রাক্কলিত ব্যায় ফেরত সহ , প্রতি মাসে ৪৮,০০০/ টাকা আয় করা আর অন্য কোন ব্যাবসায় আছে কিনা আমার জানা নাই । )

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৩

বিএনপি কার , জনগন না জামাত-শিবিরের ?

বিএনপি চুপ কেন ? কার স্বার্থে ? জনগন না জামাত-শিবিরের ? ৭১ এর মানবতাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অপরাধে আজ যখন জামাতের নায়েবে আমীর ওরফে দেইল্লা বা দেলু রাজাকারের ফাঁসির রায় হল , সারা বাংলায় যখন আনন্দের জোয়ার বইল , মুক্তিযোদ্ধারা যখন খুশি হইল , ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মা যখন শান্তি পেল, ঠিক সেই সময় আমাদের বিএনপি চুপ রইল । বিএনপি এর পক্ষ থেকে কোন প্রকার মন্তব্য প্রকাশ করা হই নাই । আমরা কি ভাবব যে, এই ফাঁসির রায়ে বিএনপি মর্মাহত ! নাকি তারা হতভম্ব ! শহীদ জিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা । উনি যখন ক্ষমতায় তখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়েছিলেন । তারি ধারাবাহিকতায় উনার স্ত্রী রাজাকারদের এই বাংলায় পাকাপোক্ত করেছেন । আমাদের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন তাদের গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতে । জামাত- শিবিরের ডাকা হরতাল ও নৈরাজ্যকে সমর্থন দেন নৈতিক কারনে । আজ যখন জামাত- শিবিরের জঙ্গিরা নৈরাজ্য চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে বসত বাড়ি সহ গাড়ি, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে । উপড়ে ফেলছে রেল লাইন , আগুন দিচ্ছে রেল ষ্টেশনে , তখনও উনাদের একজন বলছেন আওয়ামীলীগ দেশকে ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে । জামাত- শিবির যখন প্রকাশ্যে বলছে “ দেশে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিব” , তখনও উনারা নৈতিক সমর্থন দিয়ে বা চুপ থেকেছেন । শুধু তাই নয় উনার দলের MP রা স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ে উদ্ভট কথা বলা শুরু করেছেন । নিলুফার ইয়াসমিন নিলু নামের এক MP তো ৩০ লক্ষ নয় ৩ লক্ষ শহীদ হয়েছে বলছেন । বঙ্গবন্ধু নাকি “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” বলেছেন । খালেদা জিয়া সহ বিএনপির নেতারা বলছেন যাদের বিচার হচ্ছে উনারা নাকি ৭১ এ কোন মানবতা বিরোধী অপরাধ করেন নাই । এই সব কথা বলার জন্য বিএনপিকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা যেতে পারে । সময়ের রায় জনগন দিবে । আমার প্রশ্ন , যদি বর্তমান আটক ব্যাক্তিরা মানবতা বিরোধী অপরাধ না করে থাকেন , তা হলে কারা তখন এই অপরাধ করেছিল ? আর বিএনপি কেন এতদিন এর বিচার করেন নাই ? নাকি উনারা চান না তাদের দোসর এই জামাত- শিবিরের রাজাকারদের বিচার করতে ? এটা কি উনাদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটার কোন ধান্দা ? নাকি উনারা এমন কিছুই পেয়েছেন জামাতের কাছ থেকে যার জন্য জনবিচ্ছিন্ন হতে উনাদের কোন আপত্তি নাই ? তার পরেও থেমে থাকবে না যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । কোন দল সমর্থন দিল কি দিল না তার প্রয়োজন নাই । এই বিচার জনগনের দাবি, এই বিচার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি । এই বিচার সকল শহীদের দাবি । এই বিচার আমাদের পতাকার দাবি ।

বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

জামাত- শিবির কি আস্তিক- নাস্তিক নির্ধারণের কোন মাপকাঠি

আস্তিক বা নাস্তিক এই প্রশ্নটি এখন সকলের । আমি ও আপনি আস্তিক কি নাস্তিক তার সার্টিফিকেট নিতে হবে জামাত- শিবিরের কাছ থেকে । জামাত- শিবিরের এই দাবিকে দেশের জনগন ও সরকার কিভাবে নিচ্ছে তা আমি জানি না । তবে এটা বলতে পারি ইসলাম ধর্মে এ দায়িত্ব কাউকেই দেওয়া হয় নাই । একত্ববাদে বিশ্বাসী যে , সেই আস্তিক । আল্লাহ্‌ ও তার নবী রাসুলদের প্রতি যার বিশ্বাস সেই আস্তিক । ইসলামের ভাষায় আল্লাহ্‌ ও তার প্রেরিত শেষ নবী হযরত মোহাম্মাদ সঃ এর প্রতি যার বিশ্বাস , আহকাম-আরকান যে মেনে চলে সেই প্রকৃত মুসলমান । যাকে বলা যায় আস্তিক । কিন্তূ জামাত- শিবির যে আস্তিক- নাস্তিকের কথা বলছে তা আমি বুঝতে পারছি না । জামাত- শিবির কি আস্তিক- নাস্তিক নির্ধারণের কোন মাপকাঠি নিয়ে বসে আছে । আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে , জামাত- শিবির ৭১ এ যে কার্যকলাপ করেছে সেটা কোন আস্তিকের কাজ । যদি তারা আস্তিক হয় তাহলে এখন কেন তারা গাড়ি পুড়ছে, ভাংচুর করছে সব , আহত করছে পুলিস সহ সাধারন জনগণকে । জান- মালের ক্ষতি করছে এ রাষ্ট্রের । ইসলামে বলে , তুমি শ্রদ্ধা কর তোমার রাষ্ট্রের আইনকে , শ্রদ্ধা কর রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে, রক্ষা কর রাষ্ট্রের সকল স্থাপনাকে, শ্রদ্ধা কর তোমার ভাষাকে, শ্রদ্ধা কর তোমার প্রতিবেশী সহ সকল মানুষকে, শ্রদ্ধা কর অন্য ধর্মের অনুসারীদের । কিন্তূ জামাত- শিবির যা করছে তার সংগে ইসলাম ধর্মের কোন মিল খুজে পাচ্ছি না । জামাত- শিবির আস্তিক কি নাস্তিক সেই প্রশ্নে যাব না, তবে এটা বলতে পারি জামাত- শিবির ইসলাম মানে না । জামাত- শিবির যে ইসলামের কথা বলে, সে ইসলাম আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ সঃ না ।

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

যদি ইসলাম এর ক্ষতি না হয়

মসজিদে আগুন দিলে যদি ইসলাম এর ক্ষতি না হয় । মসজিদে ভাংচুর করলে যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । খুন , ধর্ষণ, লুট ও অগ্নিসংযোগ করলে যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । মসজিদে বসে একজন মুসলমানকে খুন করার পরিকল্পনায় যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । মসজিদে গ্রেনেড নিয়ে গেলে যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । মসজিদে বসে অন্য মুসলমানকে গালাগালি করলে যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । মসজিদের ভিতরে ইমাম ও মুসুল্লি পিটালে যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । মসজিদের ভিতরে জুতা নিয়ে প্রবেশ করলে যদি মসজিদের ও ইসলামের পবিত্রতা নষ্ট না হয় । মসজিদে বসে অন্য মুসলিমকে কাফের বা নাস্তিক বললে যদি ইসলামের ক্ষতি না হয় । তবে জামাত- শিবিরকে নিষিদ্ধ করে ও ওদের এই দেশ থেকে বিতারিত করলেও ইসলামের কোন ক্ষতি হবে না ।

জামায়াত ইসলামের ঠিকাদারি নিয়েছে

১৯৪১ সালে পাঠানকোটে আবুল আ’লা মওদুদী জামায়াতে ইসলামী নামে ‘অরাজনৈতিক’ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। কিছুদিন পর দেখা গেল তিনি রাজনীতিতে নাক গলাচ্ছেন। পাকিস্তান নিয়ে তখন যে আন্দোলন চলছিল তাকে তিনি উল্লেখ করেন ‘আহাম্মকের বেহেশ্ত’ এবং ‘মুসলমানদের কাফেরানা রাষ্ট্র’ হিসেবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদ তার ভাষায় যেমন ‘লানত’, মুসলিম জাতীয়তাবাদও তাই। মুসলিম লীগ সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামী কি ইন্তেখাবী…গ্রন্থে মওদুদী বলেছিলেন, ওরা পরিবেশকে পায়খানার চেয়েও খারাপ করে ফেলেছে। জিন্নাহর সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন মওদুদী। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে মওদুদী ‘কাফেরদের রাষ্ট্র’ পাকিস্তানের লাহোরে এসে ডেরা বাঁধেন এবং ঘোষণা করেন, পাকিস্তান হলো ‘খোদাদাদ’ বা আল্লাহর দান। ভারতে প্রকাশিত তার আগের বইগুলো যখন পাকিস্তানে ছাপা হয় তখন জিন্নাহ, পাকিস্তান, মুসলিম লীগ সম্পর্কে যেসব সমালোচনা ছিল সেগুলো ছেঁটে ফেলেন। তারপর তিনি স্বভাব অনুযায়ী রাজনীতিতে নাক গলাতে লাগলেন। ১৯৫৩ সালে পাঞ্জাবে তিনি কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা শুরু করলেন। মওদুদীকে গ্রেফতার করে বিচার হলো এবং ফাঁসির আদেশ দেয়া হলো। পরে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপে তার ফাঁসির দ- রদ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি-জামায়াত সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে । সৌদি বাদশাহ ফয়সাল মওদুদীকে টাকা দিতে লাগলেন, মওদুদী প্রায় প্রতিদিন ফয়সালের প্রশংসা করতে লাগলেন। এভাবে জামায়াতের সঙ্গে ওহাবী ইসলামের যোগাযোগ হলো। সৌদি প্রতিষ্ঠান রাবেতার মাধ্যমে জামায়াত টাকা পায় বলে অনুমিত। এ টাকায়ই বাদশাহ ফাহাদ, ফয়সাল ইত্যাদি নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হয়। আর এসব থেকে মুনাফা সাদা টাকায় পরিণত হয়। সেই কারণে জামায়াতের টাকার কোন অভাব নেই। কল্পনা করা যায়, মীর কাশেম আলী ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করছেন শুধু লবিস্ট নিয়োগে! ১৯৭১-এর পর পাকিস্তানী জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এখানকার জামায়াতের, তবে তারা মওদুদী দর্শনের পুরোটা মানে না। এখানে মওদুদীবাদ সংশোধন করেছেন গোলাম আযম ও জামায়াত নেতৃত্ব। এর কারণ নিছক সুবিধাবাদ, অন্যকিছু নয়। মওদুদী ইসলাম সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতী ছাড়া অন্য কোন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের পক্ষে তা মেনে নেয়া কষ্টকর। কারণ ইসলাম হচ্ছে ‘সিরাতুল মোস্তাকিম।’ এই সহজ পথটিকে জামায়াতীরা কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। ইসলাম প্রসঙ্গ আনার কারণ আছে। কারণ জামায়াত ইসলামের নামেই রাজনীতি করে। তারা নিয়ত বলে, ইসলামের ঠিকাদারি তারাই নিয়েছে এবং মানুষকে মুসলমান বানাবার ঠিকাদারিও তাদের। আর এ কাজটি সহজ করার জন্য ক্ষমতায় যাওয়া দরকার।

"ওয়ালাইকুমসালাম"

আবদুল হামিদ খান ভাসানী বিংশশতকী ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক । যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন । দেশের মানুষের কাছে 'মজলুম জননেতা' হিসাবেসমধিক পরিচিত। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশীরভাগ সময় মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারা রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাঁকে "লাল মাওলানা " নামেও ডাকতেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং পঞ্চাশের দশকেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের 'ওয়ালাইকুমসালাম' বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন।

জামায়াত-শিবিরের অর্থায়ন-উৎসগুলোকে বর্জন করি

আসুন, জামায়াত-শিবিরের অর্থায়ন-উৎসগুলোকে বর্জন করি। ১. সাংস্কৃতিক সংগঠন: ক. সাহিত্য পরিষদ: বাংলা সাহিত্য পরিষদ, পল্টন সাহিত্য পরিষদ, চত্বর সাহিত্য পরিষদ, কিশোর কলম সাহিত্য পরিষদ, ফুলকুঁড়ি সাহিত্য পরিষদ, নতুন কলম সাহিত্য পরিষদ, আল হেরা সাহিত্য পরিষদ, সংগ্রাম সাহিত্য পরিষদ, ইসলামী সাহিত্য পরিষদ, কানামাছি সাহিত্য পরিষদ, অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ, স্পন্দন সাহিত্য পরিষদ, খ. সাহিত্য সংসদ: উচ্ছ্বাস সাহিত্য সংসদ, মাস্তুল সাহিত্য সংসদ, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য সংসদ, গ. সাহিত্য একাডেমী: শীলন সাহিত্য একাডেমী ঘ. একাডেমী: মৃত্তিকা একাডেমী, দাবানল একাডেমী ঙ. সাংস্কৃতিক পরিষদ: স্বদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ, ফররুখ পরিষদ চ. সংসদ সম্মিলিত সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদ, কবি সংসদ বাংলাদেশ, মওদুদী রিসার্চ সংসদ, চ. ফাউন্ডেশন: প্রতিভা ফাউন্ডেশন, শহীদ মালেক ফাউন্ডেশন, কিশোর কণ্ঠ ফাউন্ডেশন, ছ. বিবিধ: সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, পারফর্মিং আর্ট সেন্টার, বিপরীত উচ্চারণ, সৃজন চিন্তন, হিলফুল ফুজুল, সিএনসি, উত্সঙ্গ, বাংলাদেশ সাহিত্য কেন্দ্র নামক ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী (বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুকরণে) ২. প্রকাশনী: আধুনিক প্রকাশনী, কিশোর কণ্ঠ প্রকাশনী, ফুলকুঁড়ি প্রকাশনী, আল্পনা প্রকাশনী, আল কোরআন প্রকাশনী, প্রীতি প্রকাশন, সাজ প্রকাশন, সিদ্দিকীয়া পাবলিকেশন্স, মিজান পাবলিকেশন্স, মদিনা পাবলিকেশন্স, গণিত ফাউন্ডেশন, প্রফেসর’স, কারেন্ট নিউজ, প্ররফেসরস গাইড,সাহিত্যকাল, নবাঙ্কুর, সাহিত্যশিল্প, শিল্পকোণ, আযান, অনুশীলন, ফুলকলি, দিগন্ত, পাঞ্জেরী, Youth wave, পৃথিবী, ইষ্টিকুটুম, সৌরভ ৩. কোচিং সেন্টার: রেটিনা, ফোকাস, প্রবাহ, কনক্রিট, ইনডেক্স, রেডিয়াম, অপ্টিমাম, শুভেচ্ছা, সাকসেস কোচিং সেন্টার ৪. ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান: ইসলামী ব্যাঙ্ক লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টম্যান্ট লিমিটেড ৫. ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কো. লি., ইসলামী ইন্সুরেন্স কো. লি., তাকাফুল ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স ৬. ডেভেলাপারঃ মিশন ডেভেলাপারস, সোনারগাঁ হাউজিং, সিলভার ভিলেজ হাউজিং, ইনটিমেট হাউজিং, লালমাটিয়া হাউজিং, কোরাল রীফ, এস.এ.এফ,এম.ডি.সি গ্রুপ, কেয়ারী, ওয়ান সিটি, পিংক সিটি, আবাসন সিটি। ৭. বাস সার্ভিসঃ পাঞ্জেরী, আবাবিল ৮. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি(আইআইইউসি), এশিয়ান ইউনিভার্সিটি,সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, গ্রীন ইউনিভার্সিটি, ইসলামী ব্যাঙ্ক বাংলাদেশ টেকনিক্যাল কলেজ, লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেন, ইসলামী ব্যাঙ্কের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো এবং অসংখ্য আলীয়া ও কওমী মাদ্রাসা ৯. সংবাদপত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক নয়া দিগন্ত, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা। ১০. টিভি চ্যানেলঃ দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি ১১. হাসপাতালঃ ইসলামী ব্যাঙ্ক হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, আল-রাজি হাসপাতাল, আদ দ্বীন হাসপাতাল, ইবনে সিনা, ফুয়াদ আল খতিব মেডিকেল ট্রাষ্ট ১২. ফার্মাসিউটিক্যালঃ ক. ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড খ. বায়োফার্মা ল্যাবোরেটরীজ লিমিটেড, কেয়ারী সিন্দাবাদ ১৩. ইন্টারনেট ব্লগঃ সোনার বাংলা ব্লগ।

জামাত-শিবিরের ধর্মের নামে স্বার্থের লড়াই

এটা জামাত-শিবিরের ধর্ম যুদ্ধ না । এটা জামাত-শিবিরের স্বার্থের লড়াই । এটা আমাদের ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন । যারা ৭১ এ ধর্মের নামে খুন, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে । যদি এই ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে আন্দোলন ধর্ম যুদ্ধ হয় , তাহলে আমি সেই যুদ্ধের একজন সৈনিক। এই জামাত-শিবির ৭১ এ ইসলামকে ব্যাবহার করে যেমন ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল , তেমনি এখনও ইসলামকে বিকৃত করে এই চক্রটি আবার ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে । জামাত-শিবির বলে , “যারা জামাত- শিবিরের বিপক্ষে তারা সবাই নাস্তিক” । এই যদি হয় জামাত-শিবিরের ইসলাম , তবে আমি সে ইসলামের নই । জামাত- শিবির ইসলামকে বিকৃত করছে । সকল মুসলমান ভাই- বোনদের আহ্বান জানাচ্ছি , জামাত-শিবিরের অপপ্রচার থেকে নিজেকে ও ইসলামকে রক্ষা করতে । জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেই একমাত্র মুক্তি ইসলামের এ বাংলায় । নইলে ইসলামের নামে অনেক রক্তপাত হবে এ বাংলায় । আমার ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম, সৌম্যার ধর্ম । আমার ইসলাম সকল মুসলমানদের জন্য সমান অধিকার রাখে । আমার ইসলাম অমুসলিমকে খুন, ধর্ষণ বা ঘৃণা করতে বলে না ।

এটা ধর্ম যুদ্ধ নয়

এটা ধর্ম যুদ্ধ নয় । এটা ৭১ এর রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ । এই আন্দোলন জামাত- শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের আন্দোলন । এই যুদ্ধে যার শরিক না হয়ে একে বিতর্কিত করতে চান , তারা ২০১৩ এর রাজাকার । প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয় । এটা এই প্রজন্মের সকল জনগনের আন্দোলন । এই আন্দোলনের কেউ এম-পি হতেবা রাজনৈতিক কোন ফায়দা নিতে চায় না । রাজনীতিবিদরা এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিন ।

গোলাম আযমের নাগরিকত্ব

গোলাম আযমের নাগরিকত্বঃ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া ১৯৭৬ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশে পা রেখেছিলেন গোলাম আযম। মায়ের অসুস্থতার কথা বলে তিন মাসের ভিসা এবং পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে এলেও আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সেই তখন থেকেই থেকে গেছেন বাংলাদেশে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত অঘোষিতভাবে ছিলেন জামায়াতের আমির। কিন্তু '৯২ সালে জামায়াতের সম্মেলনে সরাসরি আমির হিসেবে নির্বাচিত হলে সর্বমহলে বিতর্কের ঝড় ওঠে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ২১ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত গোলাম আযমসহ ৩৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করে সরকার। '৭৬ সালের ১১ জুলাই গোলাম আযম পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে পা রেখেই প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির কোনো লোক কাউকে হত্যা করেছে বলেও আমার জানা নেই। নিজেকে বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হিসেবে দাবি করেন । তিন মাসের ভিসা নিয়ে আসা গোলাম আযম '৭৯ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন আইডিএলের ব্যানারে। '৭৬ সালে সরকার ঘোষণা করেন যে, পূর্ববর্তী সরকার যাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করেছে তারা এখন সরাসরি স্বরাষ্ট্র সচিবের বরাবরে নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তখন গোলাম আযম পাকিস্তানি পাসপোর্ট জমা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের আবেদনও করেন। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে হ্যাঁ বা না কোনো নীতিই অনুসরণ করেনি। '৭৮ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন গোলাম আযম লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে এক আবেদনে লিখেন, আমার পক্ষে দেশ থেকে চলে যাওয়া সম্ভব নয়। এর জবাব আমি সরকারের কাছ থেকে পাইনি।' '৮৬ সালের মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব বহাল করার জন্য সুপারিশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। গোলাম আযমের নিজের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি '৭৭ সালের জানুয়ারিতে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। '৭৮ সালেও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে আবারও দরখাস্ত করেন। '৭৬ সালের ২৩ জুলাই রাজনৈতিক দলবিধি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং '৭৭ সালের ১৬ মে সংবিধানে ইসলামী নীতিমালা সংযোজনকেও তিনি স্বাগত জানান। সংবিধানে রাষ্ট্রপতির '৭২ সালের ৮ নম্বর আদেশ বাতিল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পুনর্বাসিত হলে তিনি আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এদিকে '৯৩ সালের ২২ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরী গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। ২৫ এপ্রিল গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলায় হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার জন্য আপিল বিভাগে ১টি আবেদনপত্র পেশ করা হয়। ১৯৯৩ সালের ২৪ জুলাই গোলাম আযমের আটকাদেশ সুপ্রিমকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন।